ঢাকার শহরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনসংখ্যা ও যানজট। এ পরিস্থিতিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ওভারব্রিজ। উদ্দেশ্য ছিল, ব্যস্ত রাস্তা পারাপারে নিরাপদ পথ সৃষ্টি করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ওভারব্রিজগুলো হয়ে উঠেছে অপরাধের আখড়া, মাদকাসক্তদের আস্তানা এবং বখাটেদের অরাজক আচরণের কেন্দ্রস্থল।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনেক ওভারব্রিজ দখল করে রাখে কিছু চিহ্নিত মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী চক্র। তারা দলবদ্ধ হয়ে আড্ডা জমায়, প্রকাশ্যে নেশা করে এবং সুযোগ বুঝে পথচারীদের ভয় দেখিয়ে মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কখনো কখনো দেখা যায়, তারা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখিয়ে নারীদের টিজ করে, এমনকি তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা চালায়।তবে এখন দিনের বেলাতেও একই রকম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যা দেখার কেউ নেই।
বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফার্মগেট, শাহবাগ, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা ও খিলগাঁওয়ের কিছু ওভারব্রিজে প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সকাল বেলা আবার এই ওভারব্রিজগুলো পরিণত হয় “ঘুমের বিছানায়”। কিছু ভবঘুরে, বখাটে এবং নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ওভারব্রিজের মাঝখানে বা দুই পাশে নোংরা কাপড় বিছিয়ে ঘুমায়, ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক নারী ও শিশুরা এসব দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয় এবং বাধ্য হয়ে নিচ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়, যেখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব অপরাধ প্রায়শই লোকচক্ষুর সামনেই ঘটে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোনো নজরদারি চোখে পড়ে না। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযানে নামলেও তা শুধু সাময়িক হয়, স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
নাগরিকদের প্রশ্ন—এই শহরে কি ওভারব্রিজ এখন নিরাপত্তার প্রতীক নয়, বরং আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে? রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ নগরবাসী আজ নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার সহজতম উপায় থেকেও বঞ্চিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি ওভারব্রিজে নিয়মিত পুলিশ টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজনে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। নেশাসক্তদের পূনর্বাসনের পাশাপাশি বখাটেদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু নির্মাণ নয়, তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এই অবকাঠামোগুলো জনগণের কল্যাণের বদলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে—এবং সেটাই এখন বাস্তবতা।